সবুজ হলুদ বাদামি রঙের চিনার, নাতিদূরে জল আবহে চার চিনার
পুরো আঙ্গিনা জুড়ে তোমার- একান্ত তোমার ছড়াছড়ি-মায়াবি এ বিস্তার
চোখে লেগে আছে সব, সেই নিঃশব্দ কোলাহলহীন ঝরা পাতার প্রাঙ্গণ ,
নির্নিমেষ দৃষ্টি- বুকে আজও গেঁথে আছে মৃদু মৃদু মায়া- তারি লাগি;
আকাশে গুচ্ছ গুচ্ছ সাদা মেঘের ভেলা; নরম-কোমল ছন্দে নেচে নেচে যায় বেলা।
ডাল লেকের অমোঘ নিবিড় মায়া, মায়ের স্নেহে ঘিরে রাখে তোমায় সারাবেলা
কত দেশ বিদেশের পরিব্রাজক, তোমার স্নেহের খুসবু মনেতে মেখে আত্মহারা
আধো আধো কুয়াশার মায়া মোড়ানো নতুন এক ভোরে তোমার আমার দেখা
জবুথবু শীতের চাদরে তোমার জলের নিথর অভিমানি খেলা বুকেতে করে খেলা
মনের অলিতে গলিতে জমে থাকে শান্তি আর কি যেন এক অজানা অচেনা রাগিণী।
চারিদিকে গাছ আর গাছ,পত্র-পল্লব ঘেরা- ওপারে বহে চলে জলের কেলি-
ফেরেন পরা ফর্সা যুবক-যুবতি; স্বচ্ছ কাশ্মিরের স্বচ্ছ মানবজাতি
কি সহজ সরল চলন, কি সহজ সরল বচন; আমুদে ভরা
হাসিতে হাসিতে কথা বলে সকল সাধারণ জনতা-‘ছি চুক ভারে?’
এখানে আশি বছরের তাগড়া বৃদ্ধা গল্প জমায় গুলির আঘাত পায়েতে নিয়ে
এখানকার ফর্সা নারীদের মুখে লেগে আছে পৃথিবীর সমস্ত প্রশান্তি
আনত নয়নে সরল বিনয়ী চোখ শান্তির প্রলেপ ছুঁয়ে দেয় হৃদয়ে
শিল্পীর অনাড়ম্বর রঙে আঁকা, সাধারণ অতি সাধারণ কিন্তু অতুলনীয়া এরা
ধরা যাবে না, ছোঁয়া যাবে না; চোখ দিয়ে দেখে করতে হবে এ দেবী বন্দনা
যুদ্ধে মা-বাপ হারা বোন এরা – সদা হাস্যে বলবে ‘ভারাই’ মোরা।
কাশ্মীর শহর থেকে পুলওয়ামা, গুলমার্গ ,পেহেলগাম শান্তি শান্তি হয়ে বেড়াই
সবুজে সবুজে ঘেরা পেহেলগাম, ছায়া ঘনবীথি আর হ্রদের মরমী গীতি
সাদা সাদা বরফ জমে আছে বিস্তীর্ণ গুলমার্গ এর বুকে – সূর্যকিরণে সুখের হাসি
জীবনের সারাৎসার, পৃথিবীর কত মানুষ কত জনে মিশে একাকার
যুদ্ধের দামামা বাজে এখানে নিয়ত; কত মানুষ মরে-কিন্তু থামেনা জীবনের গান।
হযরতবাল মসজিদের সাদা দেয়ালে শান্তির পায়রা; ভেতরে নবী মোহাম্মদের চুল
হরি পর্বতের সেই নয় কোনা আধ্যাত্মিক চাক্রা, হিন্দু পূজারিরা যেথা দেয় ডুব
হিন্দু মুসলিম মিলেমিশে থাকে ইহাপার তারপরও কেন বাঁধে গোল; কে বাঁধায় যুদ্ধের ঢোল ?
তিন দিক থেকে তিন সতীন ; শকুনের মত কুটে কুটে খেয়ে কাশ্মীরকে করে রক্তাক্ত; ভাঙ্গে হৃদয়।
আর ইতিহাসের দেয়াল থেকে ভেসে আসে কাশ্মীরী সন্তানের দীপ্ত কণ্ঠের সেই জোড়াল দাবি:
আজাদ কাশ্মীর চাই!
আজাদ কাশ্মীর চাই!!
