সহজ জীবন

দেয়ালে ঝুলন্ত সময়ে চোখ রেখে- দিন মাস বছর যুগ হারিয়ে যায় মহাকালের কক্ষপথে। আদিগন্ত নিস্প্রান স্পর্শ! ব্যাস্ত দিনের ক্লান্তি নিয়ে পৃথিবীর বুকে ঘুমিয়ে পরে যান্ত্রিক শহর; একুরিয়ামে বন্দি চোখ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে- নীল কাচের ওপারে ধূসর জগতে; প্রাচীন পিরামিডের কোঠরে সংরক্ষিত দিনলিপি’র মোড়কে ধুলোর আস্তরণ সরিয়ে স্মৃতিচারনে কাটে অবসর; অতীতের পথ ধরে ভবিষ্যতের অতলে …

Distance

As we move, we hide ourselves. Distance, an illusion our senses take comfort in. Our lips clench, sipping wine, cups empty — sweeping dusty attics locking up skeletons. Our prose becomes hyperbole, and poetry — no space for that.

বেওয়ারিশ

আমি আমার লাশটা কাঁধে নিয়ে হাঁটছি।এখানে কেউ আমাকে চেনেনা।একজন বাজারের ব্যাগ হাতে এসে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে দুঃখ করতে করতে চলে গেলো।আরেকজন হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে বললো ‘পুলিশে খবর দিন কেউ!’একজন উৎসাহী সুরে বললো ‘বুকে কান পেতে দেখেন তো প্রাণ আছে কিনা।’এই বলতেই আরেকজন বললো ‘আরে এম্বুলেন্স খবর দিন কেউ, হাসপাতালে নিতে হবে’গুলিটা এসে বামদিকে লেগেছিলো, …

কবি

অবিরত নিজস্ব নিয়মে, একা একা যে ভাঙে নদীর মতো তাঁকে ‘কবি’ বলে ডাকো! খেতে দাও শৈশবের স্বপ্ন পোড়া ভস্ম, নুন,যাপিত আগুন,বিষাক্ত ফল…. আর শেখাও পাথরের কাঠিন্য, বৃক্ষের অপেক্ষা, মৃতদের ন্যায় শব্দহীন হবার কৌশল। তাঁকে ‘কবি’ নামে ডাকো! কক্ষনো শরীরে বন্ধনের সাঁকো দেখে জানতে চেয়ো না সে কেন আত্মঘাতী? সত্য যে, সে কোন যেকোন মানুষ নয়। …

দুঃস্বপ্নের সাড়ে তিন দশক

কেমন হতো যদি দেখতাম সাড়ে তিন দশক ধরে দু:স্বপ্নে আটকে আছি?  হুট করেই ঘুম ভেঙে নিজেকে আবিষ্কার করতাম আল্পস পর্বতমালার আশেপাশে তারপর নিজের পালকগুলোকে খুঁটে খুঁটে পরিষ্কার করে উড়াল দিতাম মেঘের উপর দিয়ে। ঘুরে ঘুরে আকাশে চক্কর কাটতে থাকতাম, আমার দৃষ্টি থাকত তীক্ষ্ণ ও স্বচ্ছ। তখন সহসা পেতাম না অমানুষ দেখতে  সংবাদপত্র পড়তে কিংবা বোকাবাক্সে …

আনন্দভ্রমণ

আমার রগে টানপড়ুক, আমার শরীর ব্যথায় বেঁকে যাক।  আমার শিরায়, উপশিরায়  ছড়িয়ে পড়ুক সায়ানাইড। আমার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হোক, ক্রোধের লাল রঙ বের হয়ে আসুক  নাকমুখ দিয়ে।  আমার চোখ জ্বলে পুড়ে গলে যাক বিষাক্ত অ্যাসিডে। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসুক জীবননাশক গ্যাসে। আমার মৃত্যু হোক সবচেয়ে যন্ত্রণাময়। আমার মুখ থেতলে দিয়ে চলে যাক কোনো দ্রুতগামী ট্রেন।  সেই …

নতুন জন্মের কবিতা

তোমার কাছে সূর্যের আলো চলে আসে বাতাস বা জ্যোৎস্না চলে আসে। আসবেই। তুমি শুধু চলো সামনে চলো জন্মের দিকে চলো। কারণ ও দিকেই তোমার সুন্দর হারিয়েছে। হাঁটো আরও দ্রুত হাঁটো ছোটো আরও আরও দ্রুত দৌঁড়াও খাও-দাও বিশ্রাম করো। ভাবো প্রেমে ডুব দাও, ডুবাও ভেসে উঠো, ভাসাও। তারপর আবার চলো জন্মের দিকে চলো সামনের দিকে চলো …

অসাড় অস্তিত্ব

প্রেমিকের জন্য অপেক্ষা কি ভয়াবহ! অপেক্ষমান প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে ওঠে এক একটি বছর। প্রেমিক আসার অপেক্ষায় প্রেমিকার সযতনে সরানো প্রতিটি ধূলিকণা হয়ে ওঠে ভালবাসার বসন্ত। প্রেমিকের জন্য অপেক্ষা কি ঐতিহাসিক! নিশ্চিত পরাজয় জেনেও, প্রেমিকা যুদ্ধের ময়দানে অনড়। প্রেমিকের জন্য অপেক্ষা কি মধুর, অপেক্ষার হেমলক পানে প্রেমিকা হয়ে ওঠে স্বর্গের আফ্রোদিতি।