ভগ্নাংশ-চুম্বনাংশ

ভগ্নাংশঃ   ∆   তাকে ওড়ায় সাধ্য কার, নিজের খাঁচায় বন্দী যে, বুকের ভেতর বৃষ্টি হলে, চোখের আগে মন ভিজে।।   ∆   মৃত্যু বলছে, ‘জন্মাও’ আর জীবন বলছে, ‘বাঁচো’ তোমরা যারা জন্মাওনি, তারা-ই ভালো আছো।।   ∆   সঙ্গে থেকো সন্ধ্যা তারা সঙ্গে থেকো চাঁদও আকাশ যদি না দেয় সাড়া আমার সঙ্গে কাঁদো।।   ∆   নিজের মৃত্যুতে …

ভবিষ্যৎ মৃত্যু

দুটো বুলেট নিয়ে দুটো রিভালভারে, ঠিক তাক করব দুজন দুজনের দিকে ঠিক সেখানটায় যেখানে তুমি কালো টিপ পরে থাকতে, আর আমার কপালের মাঝ বরাবর, যেখানে তুমি হরহামেশা চুমু আঁকতে। মনে বাজবে শরতের সুর, বাতাস বইতে থাকবে হালকা করে। হ্যাঁ অবশ্যই তোমার ওড়না উড়বে সামান্য। দুলবে খানিক। কিছুটা মাতাল হওয়াও যেতে পারে। যেন কিছুটা শুটিংস্পটের মতো …

চিঠি

প্রিয়তমেষু, নারীর প্রবাস জীবন কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্যের আর নিরাপদ জানাতে ভুলো না। আমার এখানে হাওয়ারা বৃদ্ধ, স্বাধীন নয় নদীর গতিপথ, এমনকী একটি ফুলও না জলে জলে, দলে দলে বিভক্ত মানুষ। সকল জরুরী চিঠি ঝড়ের কবলে পোস্টম্যান পলাতক। বন্ধুরা কেউ কেউ স্কাইপে কথা বলে তুমি বরং হলুদ খামে করে একখন্ড বরফ পাঠিও এই গ্রীষ্ণে এবার অসহ্য গরম …

হতেও তো পারে

বন্দুকের নলের মাথাগুলো লজেন্সের মোড়কের মত মুচড়ে যেতেও তো পারে । ক্রোধে ভরা পিন্ডে কোন নারী সুখের তুষার বইয়ে শীতল রেফ্রিজেটরও হতে পারে । ৫৭ ধারার মানে বদলে প্রকাশ্যে চুমুর জায়েজিকরণ মলমও তো হতে পারে। বিটিভিতে “অদ্ভুত উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ” নামে একদিন আলোচনাও কিন্তু হতে পারে। পুলিশের পোষাক পাল্টে গোলাপ প্রিন্টের সাদা শার্ট আর …

চিরকুট- ৮৭

কৃষ্ণচূড়া লাল ঠোট; কপাল ঘামে নীল চন্দন; লজ্জাবতী লতার আড়ালে ডাগর নয়ন; ধুপছায়ায় ছেয়ে যায় অন্তিম স্মৃতিপট! — Art: Red Lips, Copic Markers, A5 by MahmurLemur

জানোয়ার

আমি দাড়াইয়া ছিলাম বিছনার পাশে, জানালায় মাকড়সার জাল গুলা যেন ক্যানভাস, মরা মশার ছবি আঁকা। আমি দাঁড়াইয়া ছিলাম তোমার পাশে, হাতে মালা লইয়া! অনেক সময় গেলো, একদিন, দুইদিন- ৭৮ ঘন্টা হয়তো আরও বেশি সময়! এমন করিয়া ফুল গুলা শুকাই গেলো। বিছনায় কুকুরেরা ঘর করিল। দাঁড়াইয়া ছিলাম তোমার বিছনার পাশে- আর হাতের ফুল গুলা শুকাইয়া গেলো …

বৈশাখ

এই বৈশাখে- তোমার ঐ দুধে-আলতা মুখে খয়েরী টিপ পড়বে বলেছিলে, কাচা সজনেডাঁটা শরীরে জড়াবে লাল পাড়ের জামদানি, যার আচলে থাকবে একশ নদীর নাম। আইলেস, লিপস্টিক আর একপায়ে পড়বে ঝুমকো লাগানো রুপোর নূপুর- হাত ভরা রঙ-বেরঙের চুড়ি আর চুড়ি! মরি মরি সুন্দরী, রুপ ভেবেই মুর্ছা যাই! মরার মন বোঝেনা- চেতনায় আছো, বাস্তবে নাই।

মধ্যদুপুর

মধ্য দুপুরের সূর্যরা হয় পূর্ণ যৌবনা। কারো মনে সাধ জাগে মেঘের মলাটে নিজেকে লুকানোর, কেউ বা খুঁজে ফেরে গোধূলি লগ্ন, কারো হাতে এসে ভর করে পুরো রাজ্যের আকাশ। কেউ বা হতে চায়- নিভৃত রজনী আর কেউ বা একফালি বাঁকা চাঁদ । ক্ষণিকের চাঁদে যাদের মন ভরে না তাদের চাই ভরা জোছনা । হঠাৎ হঠাৎ কেউ …

বায়ুসখা

শিমুলের শাঁখে: এসব অতীত খুঁড়ে, ব্যবধান পুড়িয়ে কি হবে? এইসব স্মৃতি এখন কচুপাতায় মোড়ানো বর্ষাকাল কিংবা একটা মরা গাছের অস্ফুট চিৎকার, যে তার নাম ভুলে গ্যাছে, যাকে হত্যা করা হয়েছে কোজাগেরী রাতে, যাকে ভালোবাসি বলতে বলতে ছুরি চালিয়েছে ভালোবাসা: যে একটা ডোবায় পড়ে গিয়ে-মরে গিয়ে: ধূসরীত সান্ধ্যমালা কবিতায় লিখেছিল, যেখানে,প্রেমিকা তাকে ঠোট ভরা আগুন নিয়ে …

আলো-ছায়ার গল্প

এত কোলাহল ডাকে, সেই সুখমাখা ফাঁকে, আজ চারিদিকে জোনাকির আলো। আলো আজ ঢেকে দিলো, তাতে কালো চলে গেল? চেয়ে দেখো ছায়া ঠিকই পাশে ছিল। তবে আলোরই গল্প হয় ছায়া রেখে মেঝেতে, তার শুরু পদতলে হয়। মানে বুঝেছ কি তুমি শেষ হলে তার শুরু, তাই জোনাকি কি বিলাসিতা নয়? সেদিন ভেবে রেখেছো কি? গল্প কি হবে …