চিঠি

প্রিয়তমেষু, নারীর প্রবাস জীবন কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্যের আর নিরাপদ জানাতে ভুলো না। আমার এখানে হাওয়ারা বৃদ্ধ, স্বাধীন নয় নদীর গতিপথ, এমনকী একটি ফুলও না জলে জলে, দলে দলে বিভক্ত মানুষ। সকল জরুরী চিঠি ঝড়ের কবলে পোস্টম্যান পলাতক। বন্ধুরা কেউ কেউ স্কাইপে কথা বলে তুমি বরং হলুদ খামে করে একখন্ড বরফ পাঠিও এই গ্রীষ্ণে এবার অসহ্য গরম …

ভাল আছি

কোন কোন দিন বেদনা রঙিন স্বপ্নরা বুকে বিব্রত বসবাস। শ্রাবন শ্বাসীত ভাল আজও বাসিতে নিশিতের অন্ধ আকাশ। অনাহূত সুখ অবিরত ভাসুক চোখেরই জ্বলে, ঘর বাধা হত আমারএই ক্ষত, তোমার ছোঁয়ায় প্রশান্ত হলে। অশান্ত মন, বসন্ত শ্রাবন , সময় গিয়েছে ঢের তবু শ্বাশত সত্য কেপে উঠে চিত্ত যদি মনে পড়ে ফের। জানি এখন তুমি কনকচাঁপা রাত্রি …

জাদুকর

মাছ-মাংসের বাজার ঘুরে, সবজি কিনে ঘরে ফিরি রোজ। তাতে আমার কোন দুঃখ নেই, দুঃখ থাকবারও কথা নয়। শুধু আমার বাবার কথা মনে পড়ে, মনে পড়ে শৈশবের ছোট ছোট দুটো হাত কেমন বড় বড় দুটো হাতের ভেতর লুকিয়ে যেত- কেমন করে বাবা বুঝে যেত আমি ঠিক কোন মাছটা চাই! তখন অই ছয়ফুট লম্বা অতবড় মানুষটাকে মনে …

দূরে থাকো

তোমারওতো অটোগ্রাফে আছে লেখা একটা ছবি নিরাধারের শুকনো জলের পাশ ফেরা ঘরে, শানকির খিঁচুড়িতে লেহন দিতে দিতে যেদিন ভাবনার শেষ ভেবেই ঢোক গিলে নিয়েছিলে ভুলে, আর তারপর অযথাই প্রেমিকার ছলে, দূরে থেকে ঠেকেছ ভাবনার কতো কাছে, তবুও যদি হতে চাওয়া সুবলার সুবলা হতে, ভাবনার জন্ম হতো জন্মান্তরে;যেখানে তুমি আছো, শ্বাস নিচ্ছো, পচে গিয়ে পড়ছো আস্তাকুড়ে, …

ইতিকথা

যেই তোরে দেখে দিতাম আবেগে ঝাঁপি , সেই তোকে দেখে কেন মন করে চিৎকার? ছায়াটুক দেখে দুজনেই উঠি কাঁপি, ভিতরে কেবলই নিস্তব্ধ, হাহাকার। বেলা শেষে যেথা সব ছিল ‘আমাদের’ আজ কেন সেথা যুদ্ধের ময়দান। যে আমাদের তকমা ‘অবিচ্ছেদ্দ্য’ ছিল, সেই গল্পের টানছি আজ অবসান। মনে পরে সেই ছোট্ট বেলার কথা? বয়স ছিল ছয় কিংবা সাত। …

জানোয়ার

আমি দাড়াইয়া ছিলাম বিছনার পাশে, জানালায় মাকড়সার জাল গুলা যেন ক্যানভাস, মরা মশার ছবি আঁকা। আমি দাঁড়াইয়া ছিলাম তোমার পাশে, হাতে মালা লইয়া! অনেক সময় গেলো, একদিন, দুইদিন- ৭৮ ঘন্টা হয়তো আরও বেশি সময়! এমন করিয়া ফুল গুলা শুকাই গেলো। বিছনায় কুকুরেরা ঘর করিল। দাঁড়াইয়া ছিলাম তোমার বিছনার পাশে- আর হাতের ফুল গুলা শুকাইয়া গেলো …

ছায়াসঙ্গম

চুমুর আক্ষেপ নিয়ে কলিংবেল বাজাচ্ছি। নিয়ম মাফিক ভেতর থেকে ছোটবোন দরজা খুলে দিলো। মাঝে মাঝে মনে হয়, পৃথিবীতে কেবলমাত্র এই একটি কারনেই ছোটবোনদের জন্ম হওয়া উচিত। বড় ভাইদের একমাত্র ভরসার স্থল, সে যত দেরি করেই ঘরে ফিরুক না কেন কলিংবেলের আওয়াজ শুনে পৃথিবীর যাবতীয় কাজ ফেলে সোহাগী ছোট বোনটি এক দৌড়ে দরজা খুলে দেবে। যথারীতি …

আমি

চোখদুটো এতো সুন্দর লাগছে, মনে হচ্ছে: একা একটা সমুদ্র, যার কোন ভালোবাসার দরকার নেই, যার কাছে আকাশ ভীষণ তুচ্ছ! — Art: Last Year in Marienbad (1961)