ইতিকথা

যেই তোরে দেখে দিতাম আবেগে ঝাঁপি , সেই তোকে দেখে কেন মন করে চিৎকার? ছায়াটুক দেখে দুজনেই উঠি কাঁপি, ভিতরে কেবলই নিস্তব্ধ, হাহাকার। বেলা শেষে যেথা সব ছিল ‘আমাদের’ আজ কেন সেথা যুদ্ধের ময়দান। যে আমাদের তকমা ‘অবিচ্ছেদ্দ্য’ ছিল, সেই গল্পের টানছি আজ অবসান। মনে পরে সেই ছোট্ট বেলার কথা? বয়স ছিল ছয় কিংবা সাত। …

জানোয়ার

আমি দাড়াইয়া ছিলাম বিছনার পাশে, জানালায় মাকড়সার জাল গুলা যেন ক্যানভাস, মরা মশার ছবি আঁকা। আমি দাঁড়াইয়া ছিলাম তোমার পাশে, হাতে মালা লইয়া! অনেক সময় গেলো, একদিন, দুইদিন- ৭৮ ঘন্টা হয়তো আরও বেশি সময়! এমন করিয়া ফুল গুলা শুকাই গেলো। বিছনায় কুকুরেরা ঘর করিল। দাঁড়াইয়া ছিলাম তোমার বিছনার পাশে- আর হাতের ফুল গুলা শুকাইয়া গেলো …

প্রেমের কবিতা

যা অলেখ্য তাও কি চেষ্টা- প্রতিবার সচকিত এক ঘর থেকে অন্যঘর আর পুরোনো কথাতে অনীহা যা সব হয়ে গিয়েছ, আগের দেশ। সেই কবিতা যে প্রতিটি দরজাকে ভাবে শেষ দরজা যেখানে সবকিছু ফিরে আসবে আবআর, আলাদা পরিচয়ে, দৃষ্টির প্রান্তে, পুনরায় বিছানো রবে যখন আবর্তিত হয়েছে অমোঘ সুন্দরে এক মুহূর্তে। যখন শোনা যায় আরও অন্য কবিতা লেখা …

ছায়াসঙ্গম

চুমুর আক্ষেপ নিয়ে কলিংবেল বাজাচ্ছি। নিয়ম মাফিক ভেতর থেকে ছোটবোন দরজা খুলে দিলো। মাঝে মাঝে মনে হয়, পৃথিবীতে কেবলমাত্র এই একটি কারনেই ছোটবোনদের জন্ম হওয়া উচিত। বড় ভাইদের একমাত্র ভরসার স্থল, সে যত দেরি করেই ঘরে ফিরুক না কেন কলিংবেলের আওয়াজ শুনে পৃথিবীর যাবতীয় কাজ ফেলে সোহাগী ছোট বোনটি এক দৌড়ে দরজা খুলে দেবে। যথারীতি …

The Hums and Hmms

When I ripped your ribcage open And a splurge of blue gushed onto my hands The world was silent While love played its tricks And tiptoed along my spine. It was not the frantic submission Of two endangered fools, no, You and I, we’re far beyond that; And the silence from my kisses That you …

অনিয়ম, তুমি এক মহামানবী

সম্বিত ফিরে পাওয়ার পর থেকে যা ছিলো তার সব কিছুই ক্ষমা, মেঘ, বৃষ্টি অথবা বর্ষা, ওরা সবকিছুরই উর্ধে থেকে যায়, বৃষ্টি হয়ে যায় বৃহন্নলার বারান্দায় তবু ভেজা হয়নি পুরো তিন-চারটে বছর। খুব ভোরকে যখন সকাল বলা হয়, সুর্যদেব তখনও আলো দেখতে পায় না, হাতড়ে হাতড়ে যতকালই সেকালের কাদামাটির গন্ধ নাক অবধি পৌছোয় না, আমাদের শরীর …

বৈশাখ

এই বৈশাখে- তোমার ঐ দুধে-আলতা মুখে খয়েরী টিপ পড়বে বলেছিলে, কাচা সজনেডাঁটা শরীরে জড়াবে লাল পাড়ের জামদানি, যার আচলে থাকবে একশ নদীর নাম। আইলেস, লিপস্টিক আর একপায়ে পড়বে ঝুমকো লাগানো রুপোর নূপুর- হাত ভরা রঙ-বেরঙের চুড়ি আর চুড়ি! মরি মরি সুন্দরী, রুপ ভেবেই মুর্ছা যাই! মরার মন বোঝেনা- চেতনায় আছো, বাস্তবে নাই।

তোমার জন্য অপেক্ষা

তোমার জন্য অপেক্ষা আমার শাশ্বত অপেক্ষা যেভাবে তপোবনে তপস্যামগ্ন এক ঋষিকে ডেকেছিল মায়াবতী, প্রগাঢ় মমতায়, তোমাদের সভ্যতা তাকে ডেকেছিলো “ছলনাময়ী” সম্বোধনের খোদে, যে নারী প্রাণতুচ্ছ করে চেয়েছিল “ভালবাসা” তাকে করেছ উপেক্ষা, বলেছ “দাসী” হেসেছ “তাচ্ছিল্যে” তুমি এখনো খুজে চলেছ সীতা আর শুর্পণখায় প্রভেদ, যে নারী ভালবেসেছে তাকে ই বলেছ, মোহিনী, ছলনাময়ী, অথচ মাতৃত্ব চাও নি …

মধ্যদুপুর

মধ্য দুপুরের সূর্যরা হয় পূর্ণ যৌবনা। কারো মনে সাধ জাগে মেঘের মলাটে নিজেকে লুকানোর, কেউ বা খুঁজে ফেরে গোধূলি লগ্ন, কারো হাতে এসে ভর করে পুরো রাজ্যের আকাশ। কেউ বা হতে চায়- নিভৃত রজনী আর কেউ বা একফালি বাঁকা চাঁদ । ক্ষণিকের চাঁদে যাদের মন ভরে না তাদের চাই ভরা জোছনা । হঠাৎ হঠাৎ কেউ …

সীমা-রেখা

দেশ থেকে দেশান্তর; জ্যামিতিক বিন্দুতে আঁকা- গাড় লক্ষন রেখা; শুধু আকাশটাই সীমাহীন! ভেসে আসা ভাষায় কোন ব্যাবধান বোধ করিনি; হাজার বছরের লালিত সংস্কার অভিনড়ব; একটি শরীরের মেরু বরাবর গেথে দেওয়া তারকাটা; অথচ, অন্তিম নিঃশ্বাস অবধি রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক! এভাবেই বেচে থাকা অনাদিকাল; সীমায় সীমায়িত বিন্দুর অসীম সঞ্চারপথ; দৃশ্যত বিভেদতলে বিমূর্ত হাতছানি; সময়ের সমীকরণে সম্পর্কগুলো হারিয়ে …