মায়াবতী

শেষ রাতে হুংকার দিয়ে – শেষ বাঁশী বাজিয়ে চলেছে নাবিক। রাতের নিস্তব্ধতায় জমা হয় ছায়া। চাঁদ নির্গত করে অবিরাম, স্বচ্ছ সুগন্ধি। পূর্ণ হয় কোল জুড়ে; উচ্ছ্বাস কোথায় মায়াবতী? যদি গোলাপের গাছে, রাজকীয় আভা উৎভাসিত হয়; শুধু গোপন প্রেমের আহ্বানে- অনুমান করি সত্যিই ভালোবাসো। শব্ধাধিক্যে প্রকাশ নয়- ভালোবাসার বর্হিপ্রকাশ হোক স্বপ্নে। প্রতিটি নিঃসঙ্গ অনুভূতিতে, অনুভব করো …

To All My Friends

do not relic the earth with my corpse bequeath it to the sky — as flocks abandon into the evening do not air my obituary entombed, as I was, for all these years, spending breath among you, bequeath me to the sky right as the evening splinters nests into life

রাজশাহী ২২.১/১৮

বহুক্ষণ তোমার সাথে কথা না হলে পাপ বাড়ে, মনে ভাবি বুঝি বুকপকেটে হাবিয়া তুলেছি! তখন ছিনতাই হয়েছিলো, সব টাকা নিয়ে নিল; ওরা যে কেনো এতো নোংরা হয়ে গেলো! এটিএম বুথ আর ডেবিট কার্ড পরস্পরকে মুগ্ধ করতে পারেনি, তাই এবেলা খাওয়াও হয়নি। এই তল্লাটে বোধহয় আমি একাই মাতাল। কেউ সাড়া দিচ্ছেনা,তবুও চায়ের দোকানদার, টহল পুলিশ, স্টেশনমাস্টার,ব্যস্ত …

বেওয়ারিশ

আমি আমার লাশটা কাঁধে নিয়ে হাঁটছি।এখানে কেউ আমাকে চেনেনা।একজন বাজারের ব্যাগ হাতে এসে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে দুঃখ করতে করতে চলে গেলো।আরেকজন হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে বললো ‘পুলিশে খবর দিন কেউ!’একজন উৎসাহী সুরে বললো ‘বুকে কান পেতে দেখেন তো প্রাণ আছে কিনা।’এই বলতেই আরেকজন বললো ‘আরে এম্বুলেন্স খবর দিন কেউ, হাসপাতালে নিতে হবে’গুলিটা এসে বামদিকে লেগেছিলো, …

কবি

অবিরত নিজস্ব নিয়মে, একা একা যে ভাঙে নদীর মতো তাঁকে ‘কবি’ বলে ডাকো! খেতে দাও শৈশবের স্বপ্ন পোড়া ভস্ম, নুন,যাপিত আগুন,বিষাক্ত ফল…. আর শেখাও পাথরের কাঠিন্য, বৃক্ষের অপেক্ষা, মৃতদের ন্যায় শব্দহীন হবার কৌশল। তাঁকে ‘কবি’ নামে ডাকো! কক্ষনো শরীরে বন্ধনের সাঁকো দেখে জানতে চেয়ো না সে কেন আত্মঘাতী? সত্য যে, সে কোন যেকোন মানুষ নয়। …

আনন্দভ্রমণ

আমার রগে টানপড়ুক, আমার শরীর ব্যথায় বেঁকে যাক।  আমার শিরায়, উপশিরায়  ছড়িয়ে পড়ুক সায়ানাইড। আমার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হোক, ক্রোধের লাল রঙ বের হয়ে আসুক  নাকমুখ দিয়ে।  আমার চোখ জ্বলে পুড়ে গলে যাক বিষাক্ত অ্যাসিডে। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসুক জীবননাশক গ্যাসে। আমার মৃত্যু হোক সবচেয়ে যন্ত্রণাময়। আমার মুখ থেতলে দিয়ে চলে যাক কোনো দ্রুতগামী ট্রেন।  সেই …

চিঠি

প্রিয়তমেষু, নারীর প্রবাস জীবন কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্যের আর নিরাপদ জানাতে ভুলো না। আমার এখানে হাওয়ারা বৃদ্ধ, স্বাধীন নয় নদীর গতিপথ, এমনকী একটি ফুলও না জলে জলে, দলে দলে বিভক্ত মানুষ। সকল জরুরী চিঠি ঝড়ের কবলে পোস্টম্যান পলাতক। বন্ধুরা কেউ কেউ স্কাইপে কথা বলে তুমি বরং হলুদ খামে করে একখন্ড বরফ পাঠিও এই গ্রীষ্ণে এবার অসহ্য গরম …

ভাল আছি

কোন কোন দিন বেদনা রঙিন স্বপ্নরা বুকে বিব্রত বসবাস। শ্রাবন শ্বাসীত ভাল আজও বাসিতে নিশিতের অন্ধ আকাশ। অনাহূত সুখ অবিরত ভাসুক চোখেরই জ্বলে, ঘর বাধা হত আমারএই ক্ষত, তোমার ছোঁয়ায় প্রশান্ত হলে। অশান্ত মন, বসন্ত শ্রাবন , সময় গিয়েছে ঢের তবু শ্বাশত সত্য কেপে উঠে চিত্ত যদি মনে পড়ে ফের। জানি এখন তুমি কনকচাঁপা রাত্রি …

জাদুকর

মাছ-মাংসের বাজার ঘুরে, সবজি কিনে ঘরে ফিরি রোজ। তাতে আমার কোন দুঃখ নেই, দুঃখ থাকবারও কথা নয়। শুধু আমার বাবার কথা মনে পড়ে, মনে পড়ে শৈশবের ছোট ছোট দুটো হাত কেমন বড় বড় দুটো হাতের ভেতর লুকিয়ে যেত- কেমন করে বাবা বুঝে যেত আমি ঠিক কোন মাছটা চাই! তখন অই ছয়ফুট লম্বা অতবড় মানুষটাকে মনে …