আনন্দভ্রমণ

আমার রগে টানপড়ুক, আমার শরীর ব্যথায় বেঁকে যাক।  আমার শিরায়, উপশিরায়  ছড়িয়ে পড়ুক সায়ানাইড। আমার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হোক, ক্রোধের লাল রঙ বের হয়ে আসুক  নাকমুখ দিয়ে।  আমার চোখ জ্বলে পুড়ে গলে যাক বিষাক্ত অ্যাসিডে। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসুক জীবননাশক গ্যাসে। আমার মৃত্যু হোক সবচেয়ে যন্ত্রণাময়। আমার মুখ থেতলে দিয়ে চলে যাক কোনো দ্রুতগামী ট্রেন।  সেই …

চিঠি

প্রিয়তমেষু, নারীর প্রবাস জীবন কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্যের আর নিরাপদ জানাতে ভুলো না। আমার এখানে হাওয়ারা বৃদ্ধ, স্বাধীন নয় নদীর গতিপথ, এমনকী একটি ফুলও না জলে জলে, দলে দলে বিভক্ত মানুষ। সকল জরুরী চিঠি ঝড়ের কবলে পোস্টম্যান পলাতক। বন্ধুরা কেউ কেউ স্কাইপে কথা বলে তুমি বরং হলুদ খামে করে একখন্ড বরফ পাঠিও এই গ্রীষ্ণে এবার অসহ্য গরম …

ভাল আছি

কোন কোন দিন বেদনা রঙিন স্বপ্নরা বুকে বিব্রত বসবাস। শ্রাবন শ্বাসীত ভাল আজও বাসিতে নিশিতের অন্ধ আকাশ। অনাহূত সুখ অবিরত ভাসুক চোখেরই জ্বলে, ঘর বাধা হত আমারএই ক্ষত, তোমার ছোঁয়ায় প্রশান্ত হলে। অশান্ত মন, বসন্ত শ্রাবন , সময় গিয়েছে ঢের তবু শ্বাশত সত্য কেপে উঠে চিত্ত যদি মনে পড়ে ফের। জানি এখন তুমি কনকচাঁপা রাত্রি …

জাদুকর

মাছ-মাংসের বাজার ঘুরে, সবজি কিনে ঘরে ফিরি রোজ। তাতে আমার কোন দুঃখ নেই, দুঃখ থাকবারও কথা নয়। শুধু আমার বাবার কথা মনে পড়ে, মনে পড়ে শৈশবের ছোট ছোট দুটো হাত কেমন বড় বড় দুটো হাতের ভেতর লুকিয়ে যেত- কেমন করে বাবা বুঝে যেত আমি ঠিক কোন মাছটা চাই! তখন অই ছয়ফুট লম্বা অতবড় মানুষটাকে মনে …

ইতর

আমার মা ভিক্ষা করে যেমন ক’রে সমাজ করে, রাষ্ট্র করে রাষ্ট্রপতি রাজা করে, প্রজা করে। আমার মা ভিক্ষা করে। বাবু মশাই বললো হেসে কি রে খোকা কাঁদিস ক্যানে কী হয়েছে? ক্ষোভের সাথে খোকা বললো আমার সকল চুরি গেছে! চুরি গেছে! বলিস কি রে!! কি ছিল তোর? কেইবা এলো তোর এখানে করতে চুরি? পথের ছেলে জন্ম …

হতেও তো পারে

বন্দুকের নলের মাথাগুলো লজেন্সের মোড়কের মত মুচড়ে যেতেও তো পারে । ক্রোধে ভরা পিন্ডে কোন নারী সুখের তুষার বইয়ে শীতল রেফ্রিজেটরও হতে পারে । ৫৭ ধারার মানে বদলে প্রকাশ্যে চুমুর জায়েজিকরণ মলমও তো হতে পারে। বিটিভিতে “অদ্ভুত উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ” নামে একদিন আলোচনাও কিন্তু হতে পারে। পুলিশের পোষাক পাল্টে গোলাপ প্রিন্টের সাদা শার্ট আর …

চিরকুট- ৮৭

কৃষ্ণচূড়া লাল ঠোট; কপাল ঘামে নীল চন্দন; লজ্জাবতী লতার আড়ালে ডাগর নয়ন; ধুপছায়ায় ছেয়ে যায় অন্তিম স্মৃতিপট! — Art: Red Lips, Copic Markers, A5 by MahmurLemur

জানোয়ার

আমি দাড়াইয়া ছিলাম বিছনার পাশে, জানালায় মাকড়সার জাল গুলা যেন ক্যানভাস, মরা মশার ছবি আঁকা। আমি দাঁড়াইয়া ছিলাম তোমার পাশে, হাতে মালা লইয়া! অনেক সময় গেলো, একদিন, দুইদিন- ৭৮ ঘন্টা হয়তো আরও বেশি সময়! এমন করিয়া ফুল গুলা শুকাই গেলো। বিছনায় কুকুরেরা ঘর করিল। দাঁড়াইয়া ছিলাম তোমার বিছনার পাশে- আর হাতের ফুল গুলা শুকাইয়া গেলো …

তোমার জন্য অপেক্ষা

তোমার জন্য অপেক্ষা আমার শাশ্বত অপেক্ষা যেভাবে তপোবনে তপস্যামগ্ন এক ঋষিকে ডেকেছিল মায়াবতী, প্রগাঢ় মমতায়, তোমাদের সভ্যতা তাকে ডেকেছিলো “ছলনাময়ী” সম্বোধনের খোদে, যে নারী প্রাণতুচ্ছ করে চেয়েছিল “ভালবাসা” তাকে করেছ উপেক্ষা, বলেছ “দাসী” হেসেছ “তাচ্ছিল্যে” তুমি এখনো খুজে চলেছ সীতা আর শুর্পণখায় প্রভেদ, যে নারী ভালবেসেছে তাকে ই বলেছ, মোহিনী, ছলনাময়ী, অথচ মাতৃত্ব চাও নি …

কবিতা ও শুকনো গোলাপ

আমি মুখ লুকাই কবিতার বুকে উষ্ণতার লোভে । অন্ধকার রাত্রিরে ডুবে যায়, আমি ডুবে যায় ছোট্ট শিশুর মতন সাগরের ঢেউয়ের তলে । আমি কবিতা খুঁজে বেড়ায় এই অন্ধকারে, রাত্রিরে কুকুর ডাকা কোন রাস্তার মোড়ে ।